আমি মাহবুবা মঈন। আমার নিজ জেলা সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম। ছোটবেলার একটা বড় সময় কেটেছে সৌদি আরবে। সেখানে থাকতে একটা বিষয় আমাকে খুব ভাবাতো—অনেক শিক্ষিত মানুষকেও জীবিকার জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে দেখেছি। কেউ গাড়ি ধুচ্ছেন, কেউ বাগানে কাজ করছেন। তখন থেকেই মনে একটা ইচ্ছে তৈরি হয়েছিল—একদিন এমন কিছু করবো, যেখানে শুধু আমি নয়, আরও কিছু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্স শেষ করেছি। স্বামী সরকারি চাকরিতে থাকায় নিজের জন্য চাকরির পথটা সহজ ছিল না। তাই ভাবলাম, নিজের মতো করে কিছু একটা শুরু করি—যেখানে আমার সৃজনশীলতা থাকবে, নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকবে, আর ধীরে ধীরে অন্যদেরও সঙ্গে নেওয়া যাবে। ২০১৬ সালের শেষ দিকে হাতে গোনা কিছু কাপড় নিয়ে অনলাইনে আমার পথচলা শুরু। তখন অনেকেই বলতেন, “এত পড়াশোনা করে কাপড় বিক্রি করছো?” কথাগুলো কষ্ট দিত, কিন্তু থামাতে পারেনি। বরং মনে হয়েছে—আমি যদি নিজের কাজকে সম্মান করি, একদিন অন্যরাও করবে। পথটা সবসময় সহজ ছিল না। কুরিয়ারে কাপড় ফেরত না আসা, ভারত থেকে একটি অর্ডারে প্রায় ২০ হাজার টাকা ক্ষতি, কাছের মানুষের প্রতারণা—অনেক কিছুই দেখেছি। কিন্তু প্রতিবারই নিজেকে নতুন করে দাঁড় করিয়েছি। শুধু কাপড় বিক্রি না করে নিজের হাতে কাজ শুরু করলাম। হ্যান্ড ব্লক দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট, সিকুয়েন্সসহ বিভিন্ন কাজ নিজের কারখানায় করার চেষ্টা করেছি। এভাবেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে Tawshia Fashion। আজ আমার তৈরি কাপড় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে, দেশের বাইরেও পৌঁছাচ্ছে। তবে আমার কাছে Tawshia Fashion শুধু একটি পোশাকের ব্র্যান্ড নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার অনেক বছরের পরিশ্রম, ভুল থেকে শেখা, মানুষের বিশ্বাস আর অসংখ্য স্বপ্ন। আজ আমার নিজের ওয়েবসাইটও আছে। সামনে স্বপ্ন আরও বড়—একদিন একটি সুন্দর অফলাইন স্টুডিও তৈরি করবো, যেখানে কাজের পাশাপাশি নতুনদের শেখার সুযোগও থাকবে। আমি জানি, পথ এখনও অনেক বাকি। তবে একটা জিনিস বিশ্বাস করি— স্বপ্নটা নিজের হলে, পথটা যত কঠিনই হোক, একদিন না একদিন তার একটা ঠিকানা হয়। আর আমার সেই ঠিকানার নাম— Tawshia Fashion।
উদ্যোক্তা অভিযাত্রা
উদ্যােক্তার অভিযাত্রা /মাহবুবা মঈনের উদ্যােক্তা জীবনের গল্প
মাহাবুবা_মঈন — Tawshia Fashion, সন্দীপ চট্টগ্রাম
মাহাবুবা_মঈন
Tawshia Fashion • সন্দীপ চট্টগ্রাম